কিং কোড কি? | কিং কোড বলতে কী বুঝ? |কিং কোড সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত আলোচনা কর
কিং কোড (King Code) হলো দক্ষিণ আফ্রিকার একটি প্রতিষ্ঠিত কর্পোরেট গভর্নেন্স কাঠামো, যা সুশাসন নিশ্চিত করার জন্য নির্ধারিত নীতিমালা এবং নির্দেশিকা প্রদান করে। এটি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পদ্ধতিতে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং নৈতিকতা উন্নত করার উদ্দেশ্যে প্রণীত হয়েছে। কিং কোডটি প্রথমে 1994 সালে প্রকাশিত হয় এবং এরপর এটি কয়েকবার সংশোধিত হয়েছে, যেমন: King II (2002), King III (2009) এবং সর্বশেষ King IV (2016)।
কিং কোডের মূল নীতিসমূহ
কিং কোডে সুশাসনকে একটি “সমন্বিত” পদ্ধতিতে উপস্থাপন করা হয়, যা প্রতিষ্ঠান ও সমাজের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে। এর মূল নীতিসমূহ হলো:
1. সততা ও নৈতিক নেতৃত্ব (Ethical Leadership)
- প্রতিষ্ঠান পরিচালনার সময় নৈতিক মানদণ্ড অনুসরণ।
- স্বচ্ছ এবং সৎ সিদ্ধান্ত গ্রহণ।
2. স্বচ্ছতা (Transparency)
- সমস্ত কার্যক্রম এবং আর্থিক রিপোর্টিংয়ে স্বচ্ছতা বজায় রাখা।
- স্টেকহোল্ডারদের তথ্য সরবরাহে খোলামেলা নীতি অনুসরণ।
3. জবাবদিহিতা (Accountability)
- পরিচালনা পর্ষদের প্রতিটি স্তরে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা।
- পরিচালনা কার্যক্রমের জন্য স্টেকহোল্ডারদের কাছে দায়বদ্ধ থাকা।
4. ন্যায্যতা (Fairness)
- স্টেকহোল্ডারদের প্রতি ন্যায্য আচরণ।
- সংখ্যালঘু শেয়ারহোল্ডারদের অধিকার সংরক্ষণ।
5. ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা (Risk Governance)
- ব্যবসার ঝুঁকি পূর্বাভাস এবং সঠিকভাবে মোকাবিলা করার কৌশল।
- একটি ঝুঁকি-পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা গঠন।
6. পরিবেশগত, সামাজিক এবং পরিচালন নীতি (ESG)
- পরিবেশগত এবং সামাজিক উন্নয়নে অঙ্গীকারবদ্ধ থাকা।
- কর্পোরেট কার্যক্রমে টেকসই উন্নয়নকে প্রাধান্য দেওয়া।
7. কর্মক্ষমতা ও পরিচালনা (Performance and Oversight)
- প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্য পূরণে কার্যকর তদারকি ও পরিচালনা।
- পর্ষদের দক্ষতা ও সুশাসন নিশ্চিত করা।
কিং IV এর বৈশিষ্ট্য
কিং IV (2016) সংস্করণটি কর্পোরেট গভর্নেন্সের আরও সমন্বিত ও উদ্ভাবনী দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে আসে। এর বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো:
- “Apply and Explain” Approach: নীতিগুলো বাস্তবায়নের সময় কেন ও কীভাবে এগুলো প্রয়োগ করা হয়েছে তা ব্যাখ্যা করার ওপর গুরুত্ব।
- আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সাথে সামঞ্জস্য: কিং IV আন্তর্জাতিকভাবে প্রাসঙ্গিক এবং টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে প্রস্তুত।
- স্টেকহোল্ডারদের সাথে সম্পর্ক উন্নয়ন: কোম্পানির সুশাসন এবং স্টেকহোল্ডারদের মধ্যে আস্থার সম্পর্ক তৈরি।
কিং কোডের প্রভাব
কিং কোড দক্ষিণ আফ্রিকাতে কর্পোরেট গভর্নেন্সের মান উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করেছে। এটি শুধু স্থানীয় প্রতিষ্ঠান নয়, আন্তর্জাতিক কর্পোরেট গভর্নেন্স চর্চার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে।
উপসংহার : কিং কোড শুধুমাত্র পরিচালনা পর্ষদের জন্য একটি গাইডলাইন নয়; এটি সুশাসন নিশ্চিত করার একটি সার্বিক কাঠামো। এর মূল উদ্দেশ্য হলো প্রতিষ্ঠানের আর্থিক ও সামাজিক দায়িত্ব রক্ষা এবং দীর্ঘমেয়াদি টেকসই উন্নয়নকে সমর্থন করা।
একাডেমিক শিক্ষা বিষয়ক লিখিত প্রশ্ন সমাধান পেতে ক্লিক করুন।
আর্টিকেলের শেষ কথাঃ কিং কোড কি? | কিং কোড বলতে কী বুঝ? |কিং কোড সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত আলোচনা কর | কিং কোড কাকে বলে?
বাংলা নিউজ এক্সপ্রেস সর্বশেষ আপডেট পেতে Google News অনুসরণ করুন
আরো পড়ুন:
- কিং কোড কি?
- উত্তম কর্পোরেট গভর্নেন্স চর্চার উদ্দেশ্যমূলক কোড সমূহ আলোচনা কর
- OECD এর নীতিমালা শেয়ার হোল্ডারদের অসুবিধা সমূহ বর্ণনা কর
- OECD এর নীতিমালা শেয়ার হোল্ডার টি সুবিধা সমূহ বর্ণনা কর
- OECD নীতি শেয়ার হোল্ডারদের অধিকারের তালিকা সমূহ লিখ